জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্ত ও ত্যাগের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্বদেশের নাগরিক হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা কোনো ভণ্ড জাতীয়তাবাদ বা ভাওতাবাজির রাজনীতির সাথে তাঁর কোনো ধরনের আপস নেই।
আজ রোববার (২৪ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড প্রোফাইল থেকে দেওয়া এক আবেগঘন ও কঠোর রাজনৈতিক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপি’র এই শীর্ষ সংগঠক দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয়তাবাদের আড়ালে চলা অপরাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, “যে জাতীয়তাবাদ জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দেয়, বিচার ও জবাবদিহিতার দাবিকে উপহাস করে, এবং স্বদেশের নাগরিক হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে, সেই ভণ্ড জাতীয়তাবাদ ও ভাওতাবাজির রাজনীতির সাথে আমার কোনো আপস নেই।”
তিনি মনে করিয়ে দেন যে, জুলাই বিপ্লবের মূল স্পিরিট ছিল রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা ও প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু একটি পক্ষ এখনও সেই রক্তের মর্যাদা না দিয়ে ঘাতকদের আড়াল করা কিংবা নাগরিক হত্যাকে জাস্টিফাই করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পক্ষে থাকা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রকৃত দেশপ্রেমের এক অনন্য সংজ্ঞা তুলে ধরেন। তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, “মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ানোই প্রকৃত দেশপ্রেম।”
জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া এবং নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের এই আবহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই আপসহীন স্ট্যাটাসটি সচেতন রাজনৈতিক মহল এবং নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই তাঁর এই বক্তব্যকে নতুন বাংলাদেশের বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিতামূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি সাহসী অবস্থান হিসেবে দেখছেন।
