মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা; আরও ১০ হাজার সেনাসদস্য পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন

ইরানের ওপর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও জোরদার করতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ১০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৫ এপ্রিল) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পেন্টাগনের এই পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ এবং এর সহগামী যুদ্ধজাহাজ বহরে করে প্রায় ৬ হাজার সেনাসদস্য বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ এবং ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ নামে দুটি শক্তিশালী রণতরী মোতায়েন রয়েছে। নতুন রণতরীটি পৌঁছালে সেখানে মার্কিন রণতরীর সংখ্যা দাঁড়াবে তিনে। এছাড়া চলতি মাসের শেষের দিকে ‘বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’ ও মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের আরও ৪ হাজার ২০০ সেনা সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তাদের ঘোষিত নৌ-অবরোধ এখন ‘পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর’ এবং ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কঠোর অবরোধ সত্ত্বেও কিছু জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হচ্ছে। ট্র্যাকিং ডেটার এই ভিন্নতা মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রকৃত কার্যকারিতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা ব্যর্থ হলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে নতুন করে বৈঠক হতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যার মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হবে। বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল সৈন্য সমাবেশ আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্ত করার একটি কৌশল হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *