মার্কিন-ইরান যুদ্ধ থামাতে ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব: মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও আসিম মুনির

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তেহরানের কাছে ১৫ দফার একটি ‘মাস্টার প্ল্যান’ বা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার (২৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব তেহরানের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এই প্রস্তাবে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছেঃ-
১. পারমাণবিক কর্মসূচিঃ- ইরানের বর্তমান পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং ভবিষ্যতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার।
২. ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিঃ- ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও পরীক্ষা বন্ধ করা।
৩. সামুদ্রিক নিরাপত্তাঃ- হরমুজ প্রণালিকে একটি মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা এবং সেখানে ইরানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া।

বিনিময়ে ইরানকে সকল প্রকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি এবং একটি বিশেষ বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের বিশেষ ভূমিকাঃ-
এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আসিম মুনির সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ফোনে কথা বলেছেন এবং ইসলামাবাদে একটি ‘শান্তি সম্মেলন’ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্রাম্প নিজেও পাকিস্তানকে এই সংঘাত নিরসনে তাঁর ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিঃ-
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা আগামী ৫ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ইরান এখন চুক্তির জন্য ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছে। তবে তেহরানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি, শুধুমাত্র বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে তারা বার্তা পেয়েছেন।

এদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই দেশেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তেলের বিশ্ববাজার এবং আকাশপথে বিমান চলাচলে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *