মানুষের রূপ ধরে থাকা পিশাচের হাত থেকে রক্ষা পেল না ৫ বছরের এক অবোধ শিশু। মিষ্টি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে নির্জন বাগানে নিয়ে নিজের আপন মামাতো বোনকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খলশী গ্রামে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিশুর মা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, দুপুরে বাড়ির উঠানে খেলছিল শিশুটি। এসময় তার আপন ফুফাতো ভাই সিহাব (১৮) তাকে একা পেয়ে মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে প্রলুব্ধ করে। সরল বিশ্বাসে সিহাবের হাত ধরে পাশের আব্দুল হাই মাস্টারের বাগানে যায় শিশুটি। সেখানে নিয়ে শিশুটির কচি মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে দেওয়া হয় এবং হাত-পা বেঁধে তার ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন।
শিশুটির গোঙানির শব্দ শুনে এক প্রতিবেশী নারী এগিয়ে গেলে ঘটনার জানাজানি হয়। পরে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে আনা হয়। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ৫ বছরের ছোট্ট শিশুটি। এই ঘটনায় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ও ‘মীমাংসা’র জন্য চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মা। তবে তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, “আমার কলিজার টুকরাকে যে পিশাচ এইভাবে শেষ করে দিয়েছে, তার সাথে কিসের মীমাংসা? আমি ন্যায়বিচার চাই। আমার মেয়ের মতো আর কারো বুক যেন এইভাবে খালি না হয়।”
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বজলুর রশিদ টুলু জানিয়েছেন, শিশুটির রক্তক্ষরণ ও শারীরিক জখম গুরুতর। তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা চলছে।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন তবে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাননি। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ইতোমধ্যে এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই অভিযুক্ত সিহাবের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
