শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আইনি প্রক্রিয়া ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় খরচে আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর চাঞ্চল্যকর গলা কেটে হত্যা মামলায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়া (Due Process of Law) নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। কোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই যাতে এই স্পর্শকাতর মামলার বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, সেজন্য এবার আসামিপক্ষের মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে ‘স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার’ (রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার (২৪ মে) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রশাসনিক আদেশে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে (Child Violence Suppression Tribunal) বিচারাধীন এই মেগা হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের আইনি লড়াই ও ডিফেন্স পরিচালনার জন্য ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির অন্যতম সিনিয়র সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহ-কে ‘স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার’ হিসেবে চূড়ান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী, কোনো গুরুতর অপরাধের (যেমন মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ) মামলায় আসামি যদি নিজের আর্থিক অসচ্ছলতা বা অন্য কোনো কারণে আইনজীবী নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়, তবে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের স্বার্থে রাষ্ট্র নিজ খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিতে বাধ্য থাকে। আসামি সোহেল রানা মাদকাসক্ত এবং দরিদ্র হওয়ায় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াতে না চাওয়ায় রাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে উচ্চ আদালতে আইনি ত্রুটির অজুহাতে বিচারপ্রক্রিয়া আটকে না যায়।

এর আগে গত ১৯ মে পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন একটি বাসায় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিনই প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং সে আদালতে ইয়াবা সেবন করে ধর্ষণের পর হত্যার লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। গতকালই এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিএনএ (DNA) রিপোর্ট সিআইডি কর্তৃক পল্লবী থানার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এবং দণ্ডবিধির একাধিক কঠোর ধারায় দায়ের হওয়া এই মেগা মামলার বিচার কার্যক্রম এখন থেকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে সম্পূর্ণ স্পেশাল ট্র্যাক বা দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হবে। রাষ্ট্রীয় আইনজীবী নিয়োগের এই সিদ্ধান্তের ফলে চলতি সপ্তাহেই মামলার আনুষ্ঠানিক ট্রায়াল বা সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *