ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া কূটনৈতিক পদক্ষেপে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম৷ আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন৷ সম্প্রতি শেখ হাসিনা বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরে আসার ঘোষণা এবং সুনির্দিষ্ট সময়ের উল্লেখ করা সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন— “বাংলাদেশের আদালত ওনাকে সাজা দিয়েছেন৷ সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামি যিনি বাংলাদেশে অনেক অন্যায়, অত্যাচার ও কুকর্ম করে বিদেশে পালিয়ে আছেন, তিনি এখন কী বলছেন বা না বলছেন, সেটা বর্তমান সরকারের কাছে একেবারেই প্রাসঙ্গিক না, কোনোভাবেই প্রাসঙ্গিক না৷”
ভারতের সঙ্গে রানিং আলোচনা ও আসামির বক্তব্য:
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন— “আমাদের যে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া, সেটা ভারত সরকারের সঙ্গে রানিং বা চলমান আছে৷ এখন যিনি সুনির্দিষ্ট মামলার সাজাপ্রাপ্ত বা পরোয়ানাভুক্ত আসামি, তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বক্তব্য আমাদের কাছে কোনো গুরুত্ব বহন করে না৷ তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া সফলভাবে চলমান আছে৷ এই পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকারও তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে রানিং রেখেছে৷ এখানে কূটনীতির কোনো ধরনের ঘাটতি নেই৷” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে— এটি শুধু এককভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ বা বিষয় না, এখানে প্রধানতমভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বড় ধরনের সম্পৃক্ততা ও কাজ রয়েছে এবং তারা এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে৷
বন্দি বিনিময় চুক্তি ও জনগণের প্রত্যাশা:
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অসহযোগিতা কিংবা দ্বিপাক্ষিক আইনি জটিলতা রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি জবাব দেন— “দুই দেশের বিদ্যমান আইনের আলোকে কোনো জটিলতা আছে কি নাই, সেটা আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখবে৷ তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভারতের সাথে আমাদের যে ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালানো দরকার, আমরা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে ঠিক সেটাই চালাচ্ছি এবং এতে আমি বিন্দুমাত্র কোনো ঘাটতি দেখছি না৷”
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আরও বলেন— “আমরা সম্পূর্ণ সঠিক চ্যানেলে ভারতকে চিঠি দিয়েছি এবং চেষ্টা রানিং রেখেছি৷ দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বন্দি বিনিময় চুক্তির (Extradition Treaty) আওতায় একজন আসামিকে যেভাবে ফেরত আনা হয়, ঠিক সেই প্রটোকল বা বৈশ্বিক মানদণ্ড (নর্মস) অনুযায়ী ওনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং দেশের প্রচলিত আইনের অধীনেই ওনার উপযুক্ত বিচার করা হবে৷ দেশের সাধারণ জনগণও এটাই মনেপ্রাণে চায়৷”
