শেষ লড়াইয়ে নেইমার: আনচেলত্তির কঠিন শর্ত ও অনিশ্চিত বিশ্বকাপ স্বপ্ন

ব্রাজিল ফুটবলের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়রের জন্য সময়টা যেন বালুঘড়ির মতো দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছেন একসময়ের বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তারকা। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সামনে এখন একটাই লক্ষ্য—নিজেকে শেষবারের মতো প্রমাণ করে বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা ছিনিয়ে নেওয়া। তবে সেই পথ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কণ্টকাকীর্ণ।

ব্রাজিল দলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলে ফিরতে হলে নেইমারকে হতে হবে ‘শতভাগ ফিট’। অতীতের খ্যাতি বা রেকর্ড এখানে কোনো বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে না। ২০২৫ সালের দীর্ঘ সময় চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা এবং লিগামেন্ট ইনজুরি থেকে ফেরার পর আবারও অস্ত্রোপচার—সব মিলিয়ে নেইমারের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে খোদ সান্তোস ক্লাবেও।

নতুন বছরে খাদ্যাভ্যাস ও কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন নেইমার। আশার আলোও দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু মিরাসোলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচে নেইমারের অনুপস্থিতি পুরো সমীকরণ বদলে দেয়। কোচ আনচেলত্তি ও সিবিএফ কর্মকর্তারা সরাসরি নেইমারকে পরখ করতে চাইলেও ক্লাব তাকে ‘পরিকল্পিত বিশ্রাম’ দেয়। বিষয়টি সহজভাবে নেয়নি ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষ, যার প্রতিফলন ঘটেছে সর্বশেষ স্কোয়াডে নেইমারের জায়গা না হওয়ায়।

রোনালদো নাজারিও বা জিকোর মতো কিংবদন্তিরা নেইমারকে দলে রাখার পক্ষে সওয়াল করলেও ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে—বর্তমান পারফরম্যান্স ও ফিটনেসকে পাশ কাটিয়ে কি কেবল ‘নামের জোরে’ নেইমারকে বিশ্বকাপে নেওয়া উচিত? হাতে গোনা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নেইমারকে প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি এখনও বড় মঞ্চে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *