সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক শাহরিয়ার উদ্দিন ফাহাদকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শাহরিয়ার উদ্দিন ফাহাদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পাশাপাশি আসন্ন চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের সহ-দপ্তর সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন।
ফেসবুক পোস্ট ও বিতর্কের সূত্রপাত জানা গেছে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ফাহাদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন:
‘দলমত যাই হোক, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নাই যে দেবিদ্বারের ছেলেরা এখন হাসনাত হইতে চায়। গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকেও ছোট আলমপুর চৌমুহনীতে কোনো অফিস করতে পারে নাই। কিন্তু গত ৭ তারিখ এলাকায় ঢুকে চৌমুহনীতে শাপলা কলির অফিস দেখেই নিশ্চিত হয়েছিলাম, দেবিদ্বারে Hasnat Era শুরু হয়েছে। দেখা হবে রাজপথে, ইনশাআল্লাহ।’
এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিজ দলের বাইরে অন্য ঘরানার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা ছাত্রদলের আদর্শিক অবস্থানের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বহিষ্কারের আদেশ আসার পর ফাহাদ তার আগের পোস্টের স্ক্রিনশট এবং বহিষ্কারাদেশের নোটিশ শেয়ার করে ফেসবুকে আরেকটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে লেখেন:
‘যদিও বুঝাতে চেয়েছিলাম ভিন্ন আদর্শ থেকে দেবিদ্বারের রাজপথে মুখোমুখি দেখা হবে, ইনশাআল্লাহ। সেখানে কোনোরকম শোকজ না দিয়ে বহিষ্কার আদেশ দেখে হাসি পাচ্ছে লিটরেলি।’
তার দাবি, তিনি স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে রাজপথে দেখা হওয়ার কথা বলেছিলেন, কিন্তু তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই সরাসরি বহিষ্কার করা হয়েছে।
ক্যাম্পাসে আলোচনার ঝড় চবি ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতার এভাবে বহিষ্কার হওয়া নিয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকে একে সংগঠনের ‘কঠোর শৃঙ্খলা’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা হিসেবে মন্তব্য করছেন।
