সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ও ইতালির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ: সাংস্কৃতিক বিনিময় ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রত্যয়

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত H.E. Antonio Alessandro আজ সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরীর সাথে তাঁর অফিসকক্ষে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, বিশেষ করে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে ১৯৯১ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক চুক্তির কথা স্মরণ করে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, এই চুক্তিটি আমাদের দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্বের মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছে। সংস্কৃতি হলো বিভিন্ন দেশ ও জাতির মধ্যে সেতুবন্ধন রচনার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম।
তিনি দুই দেশের শিল্পী, সংগীতজ্ঞ এবং কারুশিল্পীদের মধ্যে নিবিড় বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ:
কারিগরি সহযোগিতা: পুরাকীর্তি সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার এবং আধুনিক জাদুঘর ব্যবস্থাপনায় ইতালির কারিগরি সহযোগিতার প্রস্তাবকে মন্ত্রী সাধুবাদ জানান।
সাংস্কৃতিক ইভেন্ট: ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং ভাষা প্রশিক্ষণে ইতালির আগ্রহের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।
ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ: ভেনিস বিয়েনাল (২০২২, ২০২৪), নেপলস সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্মেলন (২০২৫) এবং এক্সপো মিলানে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণ করে সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সিইপি বাস্তবায়ন: ২০২৩ সালের জুলাইয়ে রোমে স্বাক্ষরিত ‘সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি’ (CEP) কে বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
ইতালির রাষ্ট্রদূত H.E. Antonio Alessandro বাংলাদেশকে ইতালির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইতালিতে একটি বৃহৎ বাংলাদেশি কমিউনিটি বসবাস করায় দুই দেশের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পটভূমি যাই হোক না কেন, সংস্কৃতি অভিন্ন থাকে।
তিনি ইউনেস্কো এবং ঐতিহ্যগত সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি যৌথ শিল্প প্রদর্শনীর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে দুই দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি (Scholarship) ও ফেলোশিপের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও ঐকমত্য পোষণ করা হয়।
উক্ত সৌজন্য সাক্ষাৎকারে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ইতালি দূতাবাসের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *