নতুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সূচিত হলো নতুন বঙ্গাব্দ ১৪৩৩। রাজধানীর রমনা বটমূলে সুরের ধারায় ভোরের বন্দনা শেষে সকাল ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা। পহেলা বৈশাখের এই প্রধান আকর্ষণকে কেন্দ্র করে রাজপথে নেমেছে সব বয়সী মানুষের ঢল।
এবারের শোভাযাত্রায় বিভিন্ন বিশালকায় মোটিফের মাধ্যমে বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে উৎসবের আমেজের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে শোনা গেছে প্রতিবাদের সুর। সম্প্রতি বাউলদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এবং একটি অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়ে এবারের শোভাযাত্রা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এর আগে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গেই রমনার বটমূলে সম্মিলিত কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। প্রায় দুই ঘণ্টার এই দীর্ঘ আয়োজনে শিল্পীরা মোট ২২টি গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে, যার পরেই সাধারণ মানুষ যোগ দেন চারুকলার শোভাযাত্রায়।
নববর্ষের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ডিএমপির পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। উৎসবে আসা মানুষের কাছে এটি কেবল আনন্দ নয়, বরং শেকড়ে ফিরে যাওয়ার এক আবেগঘন উপলক্ষ।
