২৪ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে কেমন হবে আগামী বাজেট?

বাজেটের বিশাল অংকের দিকে না তাকিয়ে সরকারের উচিত গুণগত মান (কোয়ালিটি) এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অপচয় রোধে নজর দেওয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলাপ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

মাহমুদুর রহমান বলেন, “জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত উন্নয়ন প্রকল্পের লিকেজ বা দুর্নীতি বন্ধ করা। সক্ষমতা ছাড়া বাজেটের আকার বাড়ালে লিকেজ আরও বাড়বে। বড় বাজেট কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছাড়া আর কিছু নয়।” তিনি শ্রমঘন শিল্পে বিনিয়োগ ও শিক্ষা খাতে সংস্কারের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মেগা প্রজেক্ট হলেও কর্মসংস্থান হয়নি। কর্মসংস্থান তৈরির দায়িত্ব বেসরকারি খাতের, সরকারের নয়। সরকারি চাকরি বাড়লে কেবল ব্যয়ই বাড়ে।

অনুষ্ঠানে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম মূল প্রবন্ধে দেশের অর্থনীতির নাজুক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের সার্বভৌম ঋণ ২৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩০.৬০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাঁচটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৯০ শতাংশের উপরে। তিনি কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন (৬.৮%) হওয়ার পেছনে করের সংকীর্ণ ভিত্তিকে দায়ী করেন।

বক্তারা উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ সুবিধা এবং প্রত্যক্ষ কর বাড়িয়ে পরোক্ষ করের বোঝা কমানোর সুপারিশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *