❝ দিল্লি নয় পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ❞- জনাব তারেক রহমান।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বার্থের প্রশ্নে কোনো বিদেশি শক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না; সর্বাগ্রে থাকবে বাংলাদেশ। তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকে রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে বিদেশি প্রভাবের কাছে সমর্পণ করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘ সময় পর সরাসরি জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন।

তারেক রহমান বলেন, তথাকথিত উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থপাচার হয়েছে। উন্নয়নের কথা বলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এই বাস্তবতা থেকে দেশকে বের করে আনার অঙ্গীকার করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে জনগণের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। দিনের ভোট রাতে, ডামি প্রার্থী ও নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে গত ১৬ বছরে বহু মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, যারা আজ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তারাই গুম, খুন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিল। ইলিয়াস আলীর মতো অসংখ্য মানুষকে পরিকল্পিতভাবে নিখোঁজ ও হত্যা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা পেয়েছে। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জনগণ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

দেশের ভেতরে ও বাইরে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তারেক রহমান জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ জনগণ সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হবে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের পথ শুরু হয়েছে, গণতন্ত্রের পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নারীদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতে বিনামূল্যে নারীশিক্ষা চালু করেছিল। ভবিষ্যতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে জনসভার মঞ্চে ওঠার পর তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক। স্লোগান ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে সভাস্থল। তিনি হাত তুলে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। জনসভাকে ঘিরে কয়েক দিন ধরেই সিলেট নগরী ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সভাস্থলে উপস্থিত হন।

জনসভা উপলক্ষে সিলেট শহরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *