আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় নামল জাতীয় নাগরিক পার্টি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা এই সময়টিকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক তিন নেতার মাজার এবং গণ-আন্দোলনের শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এনসিপির প্রচারণা কার্যক্রমের সূচনা হয়।

প্রচারণা উদ্বোধনকালে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হবে। এ সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পর দেশ নতুন নির্বাচন ও গণভোটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। আজকের দিন থেকেই সেই যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে প্রচারণা শুরুর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এই স্থানটি বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থান—সব আন্দোলনের সঙ্গেই এই এলাকার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সে কারণেই ঢাকা-৮ আসনকে এনসিপির রাজনৈতিক যাত্রার সূচনাস্থল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আদর্শ থেকেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি গড়ে উঠেছে। কৃষক-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় শেরেবাংলার ভূমিকা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সোহরাওয়ার্দীর অবদান আজও প্রাসঙ্গিক।

নাহিদ ইসলাম বলেন, যেমনভাবে অতীতে শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম হয়েছে, তেমনি বর্তমান সময়েও ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে চায় এনসিপি।

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা এনসিপির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অঙ্গীকার। দেশের মাটিতেই এর ন্যায়বিচার আদায় করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আসন্ন গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংস্কার ও গণতন্ত্রের পথে জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ১০ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩০ জন প্রার্থীকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে বিজয়ী করে সংসদে পাঠালে তারা জনগণের অধিকার, সংস্কার এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।

প্রচারণার অংশ হিসেবে পরে ঢাকা-৮ এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ ও ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করেন এনসিপি নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *