অসহায় পরিবারটির সামর্থ্য না থাকায় জন্মের পর থেকেই প্রতিবন্ধী দুই সন্তানকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাদের মা-বাবা।
মো: দেলোয়ার হোসেন গোল্ডেন ও তার স্ত্রী মোছা: আয়েশা সিদ্দিকার চার সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে প্রতিবন্ধী। দ্বিতীয় ছেলে মো: আশিকের বয়স ১৮ বছর এবং তৃতীয় ছেলে মো. আব্দুল আলিমের বয়স ১৫ বছর। দুজনকেই বাড়ির বারান্দায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৮নং ভোগনগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কালাপুকুর গ্রামে শিকলে বাঁধা অবস্থায় মানবতার জীবন কাটছে।
প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের মা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “আমরা খুব অসহায়। আমার স্বামী দিনমজুর, তিনিও প্রতিবন্ধী। নাক দিয়ে কথা বলেন। দিনমজুরি করে অনেক কষ্টে আমাদের সংসার চলে। আমার দুই সন্তান জন্মের পর থেকেই প্রতিবন্ধী। তাদের চিকিৎসার খরচ বহন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।”
তিনি আরও বলেন, “শিকল খুলে দিলে তারা বাইরে চলে যায়, তখন আমি তাদের সামলাতে পারি না। এজন্য বাধ্য হয়ে তাদের বারান্দায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়। তারা শিকল বাধা অবস্থায় খায়, সেখানেই ঘুমায় এবং সন্তানদের এভাবে রাখতে আমার নিজেরও অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু অসহায় হয়ে আমাকে এ পথ বেছে নিতে হয়েছে।
”আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “আমি সরকারের কাছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে সহযোগিতা চাই। আপনারা যদি একটু সহযোগিতা করেন, তাহলে আমার সন্তানদের চিকিৎসা করাতে পারবো। সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছি। যে যেভাবে পারেন, আমার সন্তানদের পাশে দাঁড়ান।”
অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতা পেলে প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের চিকিৎসা ও পরিবারের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
