কক্সবাজার শহরে ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কস্তুরা ঘাট সংলগ্ন খুরুশকুল নতুন ব্রিজের মুখে গোলচত্বর এলাকার সড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—কক্সবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ঘোনার পাড়া এলাকার মো. ইমরান (২৬), মহেশখালী উপজেলার পুটিবিলা এলাকার মো. খোরশেদ আলম (২৮), কক্সবাজার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বৈইল্ল্যা পাড়া এলাকার মো. আবু তাহের (৩৬) এবং একই ওয়ার্ডের বৈদ্যঘোনা এলাকার সোহেল ইসলাম (৩২)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ও সাধারণ অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে ইমরানের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, অপহরণ, মারধর, চাঁদাবাজি ও চুরিসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে। খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইন, ছিনতাই/ডাকাতি এবং অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। আবু তাহেরের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রয়েছে। সোহেল ইসলামের বিরুদ্ধেও চেক জালিয়াতি, চুরি, মারধর, হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর ও হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
অভিযানে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে—কাঠের বাটযুক্ত ১৭ দশমিক ৫ ইঞ্চি লম্বা একটি লোহার ছুরি, ১০ ইঞ্চি লম্বা একটি স্টিলের টিপ ছুরি, কাঠের বাটযুক্ত ১৭ ইঞ্চি লম্বা একটি চাপাতি, ১৬ ইঞ্চি লম্বা একটি লোহার চাপাতি এবং ১১ দশমিক ৫ ইঞ্চি লম্বা আরেকটি লোহার ছুরি।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তাররা ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর উদ্ধার হওয়া অস্ত্রসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরে বিধি অনুযায়ী তাদের আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, “ছিনতাই প্রতিরোধ এবং পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।”
মন্তব্য করুন