ঢাকার সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব মোজাম্মেল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, নাগরিক সনদ এবং বিভিন্ন ধরনের প্রত্যয়নপত্রসহ ইউনিয়ন পরিষদের যেকোনো সেবা নিতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা না দিলে সেবাগ্রহীতাদের ফাইল আটকে রাখা হয় এবং নানা অজুহাতে দিনের পর দিন ঘুরিয়ে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঠিকমতো কোনো সেবা পাচ্ছি না। সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও তার বাইরে বাড়তি টাকা গুনতে হয়। সপ্তাহের পর মাস ইউপি অফিসে ঘুরেও সঠিক সময়ে সেবা পাওয়া যায় না।”
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদ মূলত মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার মূল কেন্দ্র। কিন্তু সেখানে যদি সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে এমন প্রকাশ্য বাণিজ্য চলে, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে এহেন দুর্নীতির হাত থেকে মুক্তি চান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সচিব মোজাম্মেল হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র জরুরি হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন