কক্সবাজারের টেকনাফে তথাকথিত ‘ক্রসফায়ারে’ পৌর কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা একরামুল হককে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) থেকে সাধারণ বিচারিক আদালতে স্থানান্তরের আবেদন করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. তাবারক হোসেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ স্থানান্তর আবেদন দাখিল করেন।
গ্রেপ্তার ও মামলার পটভূমি:
এর আগে গত ২৫ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিসহ চার আসামিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠনোর নির্দেশ দেন। প্রাক্তন এমপি বদি ছাড়া কারাগারে থাকা অপর ৩ আসামি হলেন—ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান। এর মধ্যে অন্য মামলায় আগের থেকেই ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ সাবজেলে ছিলেন মাহবুব আলম ও আনোয়ার লতিফ খান।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মেজর রুহুল আমিন, সেনা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আশিকুর রহমানকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফাঁস হওয়া অডিও ও ঘটনার নেপথ্য:
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে মাদকমুক্ত অভিযানের নামে কক্সবাজারের টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের টানা একাধিকবারের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগের মুহূর্তের একটি রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে সারা দেশে চরম ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ফাঁস হওয়া অডিও ফোনে একরামুলের আকুতি এবং অপর প্রান্ত থেকে গুলির শব্দ শুনে সারা দেশে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা উন্মোচিত হয়েছিল।
অভিযুক্ত পক্ষের আবেদনটির ওপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী আদেশ ও শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবেন বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন