খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর, খালিশপুর, আড়ংঘাটা, দীঘলিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের মূলহোতা ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান মো. আরমান হোসেন দীপ ওরফে ‘শুটার আরমান’কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬।
গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আরমান খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনায় র্যাব-৬ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র্যাব-৬-এর উপ-অধিনায়ক ও কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. নাজমুল ইসলাম।
সন্ত্রাসী সাম্রাজ্য ও হোয়াটসঅ্যাপে চাঁদাবাজি:
র্যাব জানায়, আরমান দীর্ঘদিন ধরে দৌলতপুর ও আড়ংঘাটা এলাকায় সক্রিয় এক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলেন। প্রাথমিক তদন্তে এই বাহিনীর আরও ৮ থেকে ১০ জন সক্রিয় সদস্যের নাম পাওয়া গেছে।
‘আরমান বাহিনী’ খুলনার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করত। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া, গুলি চালিয়ে হত্যার হুমকি এবং অস্ত্রের মহড়া দিয়ে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করত।
৪ হত্যা মামলা ও মসজিদে হামলার স্বীকারোক্তি:
প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব আরও জানায়, গত ১৭ জুন দৌলতপুরের একটি মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে সরাসরি গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আরমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে, যা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকারও করেছেন।
র্যাবের তথ্যমতে, আরমানের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় অন্তত ৭টি ভারী হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে—
২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি মামুন মোল্লা হত্যা
২০২২ সালের ৩০ জুন মারজান মুন্না হত্যা
২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি ঘাউরা রাজিব হত্যা
২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা মামলা অন্যতম।
এ ছাড়া বিখ্যাত কালা রানা হত্যা মামলায় মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে আরমানের নাম আসে এবং চলতি বছরের ১৯ মার্চ যুবদল নেতা রাশু হত্যা মামলার তদন্তেও তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
আইনগত পদক্ষেপ ও যৌথ টহল:
প্রেস ব্রিফিংয়ে মেজর মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, “আরমানকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে খুলনা অঞ্চলের একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রকে গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। কেএমপি ডিবি, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বাহিনীর অন্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
মন্তব্য করুন