কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম রুটে মাদক পাচারে কোমলমতি শিশুদের ব্যবহার করার এক নৃশংস ও অমানবিক কৌশলের উন্মোচন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এনে বিশেষ চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে দুই শিশুর পেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা।
গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) চমেক হাসপাতালে এক্স-রে পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের সহায়তায় প্রাকৃতিক উপায়ে শিশুদের পেট থেকে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বের করা হয়।
অভিযান ও গ্রেপ্তারের পটভূমি:
র্যাব-৭ সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে শিশুদের পেটে করে ইয়াবা পাচার করে আসছিল। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার আনোয়ারা উপজেলার সরকারহাট এলাকায় বিশেষ তল্লাশিচৌকি বসায় র্যাব। এ সময় সন্দেহভাজন একটি সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা শারমিন আক্তার নামে এক নারীকে আটক করা হয়। একই সময় তার সাথে থাকা ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুকে নিজেদের হেফাজতে নেয় র্যাব।
জিজ্ঞাসাবাদ ও ইয়াবা উদ্ধার:
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী স্বীকার করেন যে দুই শিশুর পেটের ভেতরে বিশেষ কায়দায় ইয়াবা পুশ করে পাচার করা হচ্ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুদের চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে করার মাধ্যমে পেটে ইয়াবার প্যাকেটের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে মলত্যাগের মাধ্যমে ৬,৬১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
টাকার প্রলোভন ও জীবনের ঝুঁকি:
র্যাব আরও জানায়, ভুক্তভোগী দুই শিশুর বাড়ি বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায়। তাদের পরিবারকে সহায়তা এবং অতিরিক্ত ৮ হাজার টাকা নগদ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে পাচার চক্রটি এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নামায়। ছদ্মবেশ ধারণ করতে সঙ্গে শারমিন আক্তারকে রাখা হয়েছিল যাতে কেউ সন্দেহ না করে।
র্যাব-৭ ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট তাওহীদুল ইসলাম জানান, পেটের ভেতরে ইয়াবার থলে ফেটে গেলে শিশুদের তাৎক্ষণিক মৃত্যুর চরম আশঙ্কা ছিল। শিশুদের এভাবে ব্যবহার রোধে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, এই পাচার চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন