যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) অক্টোবর ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৬ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ৯৯ দশমিক ৪৪ ডলারে পৌঁছেছে।
এর আগে মঙ্গলবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে বলে জানানো হয়েছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, ইরানের হামলার চেষ্টা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বৈশ্বিক পণ্যবাজার গবেষণার সহপ্রধান দান স্ট্রুইভেন মনে করছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের ওপরে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সিএনবিসির ‘স্কোয়াক বক্স এশিয়া’ অনুষ্ঠানে ব্রেন্টের দাম ১২০ ডলার ছাড়াতে পারে কি না জানতে চাইলে স্ট্রুইভেন বলেন, এমন পরিস্থিতি অবশ্যই সম্ভব।
তবে গোল্ডম্যান স্যাকসের মূল পূর্বাভাস অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে। বিকল্প নৌপথ ব্যবহার এবং ভবিষ্যতে পাইপলাইন সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে উৎপাদকরা সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে আগামী কয়েক মাসে তেল রপ্তানি স্বাভাবিক না হলে ব্রেন্টের দাম ১২০ ডলারের ওপরে উঠে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্ট্রুইভেন। তার মতে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ঘটনাগুলো সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
প্রায় এক মাস সামরিক অভিযান স্থগিত থাকার পর গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। ওই বিরতির সময়ে ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছিল।
মন্তব্য করুন