পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত ও আলোচিত বিষয় –
১. গ্রেপ্তার ও অভিযানে বিশেষ ক্ষমতা –
চাঁদাবাজি, বেআইনি কর্মকাণ্ড, মব জাস্টিস বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এখন থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হবে না। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করতে পারবেন।
২. নিষিদ্ধ দলের অপতৎপরতা ঠেকানো –
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা বা কার্যালয় খুলতে দেওয়া যাবে না। এ ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে কঠোর আইন প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. গানম্যান ও আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত নির্দেশনা –
সংসদ সদস্যদের গানম্যান: বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সশস্ত্র গানম্যান দেওয়ার নিয়ম নেই (শুধুমাত্র মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা পান)। তবে জীবনের ঝুঁকি সঠিকভাবে মূল্যায়িত হলে যে কোনো নাগরিকের মতো তাঁরাও নিরাপত্তা পেতে পারেন।
সাময়িক লাইসেন্স: নির্বাচনের আগে দেওয়া সাময়িক আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ফলাফল ঘোষণার ১৫ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে। যারা এগুলো স্থায়ী করতে চান, তাদের নতুন করে নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।
৪. নতুন পোশাক নিয়ে অসন্তোষ –
পুলিশের বর্তমান নতুন পোশাক নিয়ে বাহিনীর ভেতরে অস্বস্তি বিরাজ করছে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এই পোশাকের সঙ্গে সাধারণ নিরাপত্তারক্ষীদের পোশাকের তেমন পার্থক্য নেই, যা মনোবল কমিয়ে দিচ্ছে। এ বিষয়ে শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক মতামত জানাবে অ্যাসোসিয়েশন।
৫. লটারিতে পদায়ন ও মহাসড়ক নিরাপত্তা –
লটারি প্রথা বাতিল: লটারির মাধ্যমে থানার ওসি পদায়নের ফলে অনেক ক্ষেত্রে অদক্ষ কর্মকর্তা দায়িত্ব পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারির পর দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের আশ্বাস দিয়েছেন আইজিপি।
মহাসড়কে ডাকাতি: জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করে যেকোনো মূল্যে মহাসড়কে ডাকাতি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
