লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানের কর্মকাণ্ড নিয়ে জেলাজুড়ে চরম বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিং স্টেশনে এক মোটরসাইকেল মেকানিককে থাপ্পড় মারার অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার লাঠি হাতে তাঁর পায়চারি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া অনুসন্ধানে তাঁর বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা চলমান থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) উপজেলার ভুল্যারহাট এলাকার মোজাহার ফিলিং স্টেশনে তদারকির সময় ইউএনও শামীমা আক্তার জাহানকে লাঠি হাতে পায়চারি করতে দেখা যায়। এই ভিডিওটি সামনে আসার পর প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন ‘মাস্তানি’ সুলভ আচরণ নিয়ে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শামীমা আক্তার জাহান তাঁর আগের কর্মস্থল জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় থাকাকালীন বড় ধরনের দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর একটি প্রকল্পে ৫৫টি ভুয়া শিক্ষাকেন্দ্র দেখিয়ে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা (নং-৪) চলমান রয়েছে। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুদকের নওগাঁ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। যাচাই ছাড়াই ভুয়া নথিপত্রে স্বাক্ষর করে সরকারি অর্থ লোপাটে সহায়তা করার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় মামলার বাদী আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কালীগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই হাটবাজার ইজারা ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দে তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে ‘সমঝোতা’ বা অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, তাঁর স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির কারণে সরকারি উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাশেদুল হক প্রধান জানান, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, লাঠি হাতে তদারকি এবং দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান ফোন কেটে দেন এবং পরবর্তীতে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
