দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র তীব্র বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি; মোদি-অমিত শাহর বাসভবনে কড়া পাহারা

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্ব পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর-মন্তরে (জন্তর-মন্তর) এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেছে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের (অভিজিৎ দিপকে) নেতৃত্বে আয়োজিত এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার (৬ জুন) দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে দিল্লি পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে।

প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ: চলতি বছরের এনইইটি-ইউ (NEET-UG) ২০২৬, সিইউইটি (CUET), এসএসসি জিডি (SSC GD) এবং সিবিএসই (CBSE)-র অন-স্কিন মার্কিং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ব্যাপক অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস এবং কাঠামোগত ব্যর্থতার অভিযোগ এনে এই প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রধান ও একমাত্র দাবি— এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।

এর আগে, এই সপ্তাহের শুরুতে অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ শুরু করার জন্য তিনি আমেরিকার বোস্টন থেকে ভারতে ফিরবেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৮টায় দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দর থেকে বিক্ষোভের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে তিনি সরাসরি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরের মূল বিক্ষোভস্থলে গিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন।

এদিকে, ভারতের লাদাখ অঞ্চলের বিশিষ্ট পরিবেশ ও অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকও এই বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে লাদাখের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সহিংস বিক্ষোভের পর দিল্লির সীমানা থেকে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি দীর্ঘ ছয় মাস আটক ছিলেন। তাঁর এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণায় দিল্লির ছাত্র ও যুবসমাজের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’ (বিজেপি)-র নামের ব্যঙ্গাত্মক অনুকরণে গঠিত হয়েছে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। মাত্র গত মাসে যাত্রা শুরুর পর থেকেই তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও তরুণদের দাবির কথা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী অর্জন করেছে দলটি। ‘তরুণদের জন্য, তরুণদের দ্বারা, তরুণদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম’— এই স্লোগান নিয়ে দলটির জনপ্রিয়তা ভারতের তরুণ প্রজন্মের মাঝে এখন দ্রুত তুঙ্গে উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *