‘নিহতের সংখ্যা ভুল ও বিভ্রান্তিকর’, জাতিসংঘকে দেওয়া চিঠিতে প্রকৃত তালিকা প্রকাশের দাবি

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ১ হাজার ৪০০ জনের দাবিকৃত তালিকার সত্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে জাতিসংঘের কাছে চিঠি দিয়েছে কানাডাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স’। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট এবং আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মুহাম্মদ হাবিবে মিল্লাত সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের দপ্তরে এই চিঠি পাঠান।

চিঠিতে হাবিবে মিল্লাত উল্লেখ করেন, তাদের সংস্থা ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সহিংসতায় নিহতদের একটি ‘যাচাইযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক তালিকা’ তৈরির জন্য গবেষণা চালাচ্ছে। ঐতিহাসিক নির্ভুলতা, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে জাতিসংঘ ঘোষিত ১ হাজার ৪০০ জন নিহতের সংখ্যার পদ্ধতি ও উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের কাছে দুটি সুনির্দিষ্ট অনুরোধ জানানো হয়েছে: প্রথমত, এই ১ হাজার ৪০০ জন নিহতের বিস্তারিত পরিচিতি ও মৃত্যুর তারিখের তালিকা সংস্থার সাথে শেয়ার করা এবং দ্বিতীয়ত, সাধারণ গবেষক, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের স্বাধীন যাচাইয়ের সুবিধার্থে পুরো তালিকাটি জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা।

এর আগে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উপস্থাপিত নিহতের সংখ্যাকে ‘গুরুতর ভুল ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছিলেন শেখ হাসিনার আইনজীবী ও যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের সদস্য স্টিভেন পাওলস। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারি গেজেটের বরাত দিয়ে জানান, সরকারি গেজেট অনুযায়ী প্রকৃত নিহতের সংখ্যা প্রায় ৮৩৪ জন এবং ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা ৬৫০ জন বলা হয়েছিল। অথচ জাতিসংঘ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের দেওয়া তালিকা কোনো প্রকার পুনরাবৃত্ত যাচাই (De-duplication) ছাড়াই প্রকাশ করেছে।

কানাডিয়ান এই মানবাধিকার সংস্থাটি মনে করে, তথ্যের সহজ প্রাপ্যতা ও সঠিক যাচাইয়ের মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত ভুক্তভোগীদের স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব এবং এর ফলে বস্তুনিষ্ঠ ঐতিহাসিক রেকর্ড প্রতিষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *