সচিবালয়ে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বে আসা ওই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনাকে তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সরকার মনে করে, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বা যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রেই উভয় পক্ষের শ্রদ্ধাবোধ ও স্বার্থ বিবেচনায় নেয়া জরুরি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, বিদ্যমান চুক্তির কাঠামোর মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ (কনসালটেশন) করার সুযোগ রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কীভাবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা যায় এবং একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব সেসব বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
বৈঠকে ওষুধ খাত এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন উপায় নিয়েও মতবিনিময় হয়।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকার বাণিজ্য সম্পর্ককে একক নির্ভরশীল না রেখে বহুমুখী করতে চায় এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, লক্ষ্য হলো নতুন বাজার সৃষ্টি করা এবং রপ্তানি সম্প্রসারণ করা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোনো একচেটিয়া বা একক সম্পর্কের নীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পর্কের মাধ্যমে সব দেশের সঙ্গে কাজ করতে চায় যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, কোরিয়া ও অন্যান্য দেশও রয়েছে।
বৈঠকে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন ধারা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে পরামর্শ প্রক্রিয়া বা কনসালটেশন মেকানিজমকে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, এসব কনসালটেশন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করে দেশের স্বার্থ অগ্রাধিকার দিয়ে কীভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া যায়, সেটিই সরকারের মূল লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি আরও বাড়ানো নিয়েও প্রত্যাশা রয়েছে বলে তিনি জানান।
