আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা নৌ অবরোধের দ্বিতীয় দিনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টাকালে ইরানের অন্তত আটটি তেলবাহী ট্যাংকারকে গতিরোধ করে পুনরায় ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সকালে ইরানের বন্দর থেকে ছেড়ে আসা এবং সেখানে প্রবেশের চেষ্টাকারী জাহাজগুলোর গতিরোধ করে মার্কিন নৌবাহিনী। আরব সাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেওয়া মার্কিন রণতরীগুলো থেকে রেডিওর মাধ্যমে ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর নির্দেশ পাওয়ার পর সবকটি ট্যাংকার বা তেলবাহী জাহাজ কোনো প্রকার প্রতিবাদ ছাড়াই ফিরে গেছে। ফলে কোনো জাহাজে তল্লাশি চালানোর জন্য মার্কিন সেনাসদস্যদের ওঠার (বোর্ডিং) প্রয়োজন পড়েনি। মূলত যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাত এড়াতেই জাহাজগুলো পিছু হটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত সোমবার রাত থেকে হরমুজ প্রণালিতে এই অবরোধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। অবরোধের প্রথম দিন মঙ্গলবার জাহাজ চলাচলে খুব একটা প্রভাব লক্ষ্য করা না গেলেও এবং একটি চীনা জাহাজ অবরোধ ভেঙে পার হয়ে গেলেও, দ্বিতীয় দিনে মার্কিন বাহিনী তাদের নজরদারি ও কড়াকড়ি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অর্থনীতির প্রধান উৎস তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেশটিকে চাপে ফেলতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই অবরোধের ফলে বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
