চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মনজুর আলমের উত্তর কাট্টলীর বাসভবনে গিয়ে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন এনসিপি নেতা ও জুলাই আন্দোলনের পরিচিত মুখ হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা তিনি সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় ‘গোপন বৈঠকে’ বসেছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের কয়েকশ নেতাকর্মী বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। শুরুতে হাসনাতের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করা হলেও নেতাকর্মীরা অনড় থাকলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছাত্রদল কর্মীরা হাসনাতকে লক্ষ্য করে ‘দালাল’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহসভাপতি সাহেদ আকবরসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা উত্তেজিত নেতাকর্মীদের বুঝিয়ে শান্ত করেন এবং সন্ধ্যার দিকে হাসনাতকে নিরাপদে বের করে আনেন। সাহেদ আকবর বলেন, “আমরা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তাকে বের করে আনি। পরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে চা খেয়ে তাকে বিদায় দিয়েছি। বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
জুলাই আন্দোলনের একজন যোদ্ধা হয়ে কেন আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় গোপনে বৈঠক করবেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রদল নেতারা। মনজুর আলম বঙ্গমাতা পরিষদের সভাপতি এবং সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের চাচা। সাহেদ আকবর মন্তব্য করেন, “হাসনাত সারাদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন, অথচ গোপনে আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় আসাটা মানানসই নয়।”
মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপি থেকে মেয়র নির্বাচিত হলেও পরে দল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তিনি একাধিকবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। সম্প্রতি এনসিপি থেকে চসিক মেয়র পদে তাঁর নির্বাচনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা চলছে।
