আজ ২৫ মার্চ, বাঙালির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় কালরাত। ১৯৭১ সালের এই রাতে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। আগুনের লেলিহান শিখা আর বুলেটের শব্দে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল ঢাকা শহর। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নকে অঙ্কুরেই বিনাশ করা।
ভয়াল সেই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হয়ে ওঠে হামলার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। ছাত্র, শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—কেউই রক্ষা পায়নি সেই নির্মমতা থেকে। ইতিহাসের এই নৃশংসতম গণহত্যা কেবল প্রাণহানিই ছিল না, বরং ছিল একটি জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার জঘন্য অপচেষ্টা।
স্বাধীনতার ৫ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে এসেও আজ প্রশ্ন জাগে—সেই ত্যাগের মহিমা কতটুকু পৌঁছাতে পেরেছি আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে? উত্তরসূরিদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর চেতনা জাগ্রত রাখা এখন সময়ের দাবি। ২৫ মার্চের কালরাত কেবল শোকের দিন নয়, বরং তা আমাদের শিখিয়ে যায় সকল প্রকার শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর অবিনাশী মন্ত্র।
