ইরানের বন্দরগুলো দিয়ে সমুদ্রপথে সব ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, অবরোধ শুরু হওয়ার ৩৬ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন বাহিনী ইরানের ভেতরে ও বাইরে সব ধরনের সামুদ্রিক বাণিজ্য স্তব্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, “ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই অবরোধ সফলভাবে কার্যকর করার মাধ্যমে আমরা ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিকে আঘাত করতে পেরেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর সমুদ্রসীমায় মার্কিন নৌবাহিনী একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখছে।
মার্কিন প্রশাসন আগেই জানিয়েছিল, ইরানের উপকূলীয় এলাকা বা বন্দরগুলোতে যেকোনো দেশের জাহাজ প্রবেশ বা বের হওয়ার ক্ষেত্রে এই অবরোধ কঠোর ও নিরপেক্ষভাবে কার্যকর করা হবে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর গাইড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং রণতরিগুলো পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নিয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত আটটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে ইরানের বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তেহরানকে সমঝোতায় বাধ্য করতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই অবরোধের ফলে ইরান বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে, যা দেশটিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরতে বা বড় কোনো সামরিক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
