ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ থামাতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা এখন ‘লাস্ট ডিচ এফোর্ট’ বা শেষ মুহূর্তের চেষ্টায় মগ্ন। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর বরাতে জানা গেছে, পরিস্থিতি শান্ত করতে ৪৫ দিনের একটি সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই আলোচনার সফল হওয়া নিয়ে খোদ বিশ্লেষকদের মধ্যেই প্রবল সংশয় দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীরা দুই ধাপের একটি চুক্তির খসড়া নিয়ে কাজ করছেন। প্রথম ধাপে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে, যার লক্ষ্য হবে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের পথ খোঁজা। দ্বিতীয় ধাপে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো আংশিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
শান্তি আলোচনার মাঝেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বিধ্বংসী পোস্ট দিয়েছেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখলে ইরানিদের জীবন ‘নরকতুল্য’ করে দেওয়া হবে। আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরানে একাধারে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’ ও ‘সেতু দিবস’ হবে বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে এমন কিছু ঘটবে যা আগে কেউ দেখেনি।
ট্রাম্পের বার্তার জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নেভি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে কৌশলগত পরিবর্তন এসে গেছে যা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আধিপত্যের যুগ চিরতরে শেষ হয়েছে।
