কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে ঘটে যাওয়া স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ ও মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো একই পরিবারের তিন সদস্যকে অশ্রুসজল নয়নে নারায়ণগঞ্জে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বাদ জোহর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বায়তুল নাজাত জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠান শেষে দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাঁদের দাদার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
নিহতদের পরিচয়:
নিহতরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টার্স ইন চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামি (২৪), তাঁর বড় বোন ফারিয়া কবির (৩৩) এবং ফারিয়ার মাত্র সাত বছর বয়সী ফুটফুটে শিশুসন্তান মো. ফাইজান নূর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত নাফিজের বাবা জিহাদুল কবির একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। ফারিয়ার স্বামী নূর আলম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এ কর্মরত এবং শিশু ফাইজান নূর চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের কেজি-টু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্বজনদের নানা স্মৃতি আর স্বপ্ন নিমেষেই এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে শেষ হয়ে গেল।
১০ জনের একটি পারিবারিক দল আনন্দের উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে অবকাশ যাপনে গিয়েছিলেন। কিন্তু ১৭ অক্টোবরের সেই মর্মান্তিক আগুনে তাঁদের সেই আনন্দঘন সফর চিরতরে বিষাদে রূপ নেয়। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে সর্বমোট ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
এই অগ্নিকাণ্ডে নিহত তাঁদের আরেক খালাতো বোন মেহজাবিনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দাফন করা হয়েছে। এছাড়া অন্য দুই খালাতো বোন ইসরাত জাহান ও লায়লা জাহান নাবিলাকে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে সমাহিত করা হয়।
একই সঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। জানাজায় অংশ নেওয়া স্বজন ও প্রতিবেশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের একটি সম্পূর্ণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে গেল। তরুণ ও মেধাবী নাফিজকে ঘিরে কত স্বপ্ন ছিল পরিবারের। পর্যটনকেন্দ্রের টুপটুপ রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, চরম গাফিলতি ও পর্যাপ্ত ফায়ার সেফটি না থাকার কারণেই এই তরতাজা প্রাণগুলো ঝরে গেল। যথাযথ ব্যবস্থাপনা থাকলে এই ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব হতো বলে দাবি স্বজনদের।
আর/কে
মন্তব্য করুন