আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিজনিত কারণে মূল্যস্ফীতি আবারও উসকে ওঠার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশার চেয়ে কঠোর অবস্থান নিতে পারে—বিনিয়োগকারীদের এমন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন ঘটেছে স্বর্ণ ও অন্যান্য বহুল ব্যবহৃত মূল্যবান ধাতুর।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৪৯ মিনিটে বৈশ্বিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৬ দশমিক ৬২ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে চলতি বছরের আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের (US Gold Futures) দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬০ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
স্বর্ণের বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ক্যাপিটাল ইকোনমিক্স’-এর জলবায়ু ও কমোডিটি বিষয়ক প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ হামাদ হোসেন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, “জ্বালানি তেলের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি এবং এর ফলে উদ্ভূত মুদ্রানীতি সামলাতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ অনুমানের চেয়েও কঠোর ও কড়াকড়ি অবস্থান নিতে পারে। সুদের হার সংক্রান্ত এই অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কাই মূলত আপাতত বিশ্ব স্বর্ণ বাজারে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে।”
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম টানা চড়া থাকলে তা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার চড়া রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করে। ফলস্বরূপ, কোনো নির্দিষ্ট সুদ না থাকা সম্পদ (Non-yielding asset) হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ধরে রাখার বা সংরক্ষণের সুযোগ-ব্যয় (Opportunity Cost) অনেকটাই বেড়ে যায়।
বিশ্ববাজারে শুধু স্বর্ণই নয়, বরং অন্যান্য সব মূল্যবান ধাতুর দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এদিন আন্তর্জাতিক বাজারে আরেক মূল্যবান ধাতু রুপার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৩ দশমিক ৭৩ ডলারে নেমে আসে। এছাড়া শিল্পে ব্যবহৃত প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৩২ দশমিক ৪৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২ দশমিক ২১ ডলারে।
এদিকে বিশ্ববাজারের এই সাময়িক নিম্নমুখী প্রভাব সত্ত্বেও বাংলাদেশের স্থানীয় বাজুস (BAJUS) নির্ধারিত দর অনুযায়ী দেশের বাজারে রেকর্ড উচ্চমূল্যেই কেনাবেচা হচ্ছে জুয়েলারি স্বর্ণ।
বর্তমানে দেশে ভ্যাটসহ সর্বাধুনিক ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকায়। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকায়।
আর/কে
মন্তব্য করুন