বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে সামান্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গ্রিনিচ মান সময় ০৮:১৬-এ স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯০ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে আসে।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক ও মূল্যস্ফীতি-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এই তথ্যের অপেক্ষায় বাজার বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারে।
দিনের দরপতন ও গোল্ড ফিউচার পরিস্থিতি:
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববাজারে লেনদেনের একপর্যায়ে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৪৪২ দশমিক ৭০ ডলার পর্যন্ত উঠলেও পরবর্তীতে তা কমে আসে। অন্যদিকে, আগামী ডিসেম্বর ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ০.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৩৫ ডলারে থিতু হয়।
মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি তেল ও ফেডারেল রিজার্ভের নীতি:
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, যা নতুন করে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ (Fed) সুদের হার পুনরায় বাড়াতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নীতিগতভাবে উচ্চ সুদের হার বজায় থাকলে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত সুদবিহীন খাত হিসেবে স্বর্ণ থেকে বিনিয়োগ গুটিয়ে নেন, যা দাম হ্রাসে ভূমিকা রাখছে।
ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব:
চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স (PPI) ও কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। সুদের হার বিষয়ে ফেডের আগামী পদক্ষেপের গতিপথ এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে।
একই সাথে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও নিরাপত্তা শঙ্কা বৈশ্বিক বাজারে দ্বিধা তৈরি করছে। একদিকে জ্বালানি তেল বিশ্ববাজারে মহার্ঘ হয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপদ সম্পদ (Safe-haven asset) হিসেবে স্বর্ণের একটি বিকল্প চাহিদাও তৈরি হয়ে রয়েছে, যা বাজারের বড় ধস রোধে কাজ করছে।
মন্তব্য করুন