রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সিলেট সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারসহ বিভিন্ন স্থানে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। একই সঙ্গে এসএসএফ, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।
রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ১০৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন ও বডি-অন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন ১ হাজার ২০০-এর বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
সরেজমিনে সোমবার বিকেলে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার এলাকায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। মাজার দুটির মসজিদ ও বিভিন্ন ভবনে নতুন করে রং করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও করা হয়েছে। সিলেট সার্কিট হাউজেও করা হয়েছে আলপনার কাজ।
নগরীর বিভিন্ন সড়কেও চলছে পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ। সিটি করপোরেশনের নগরভবনের সামনের এলাকা থেকে জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, দরগাহ, আম্বরখানা, বিমানবন্দর সড়ক, টিলাগড়, মেজরটিলা ও শাহপরান মাজার এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সড়কের ডিভাইডারগুলোতেও নতুন করে রং করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশের স্থানও প্রস্তুত করা হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতি সিলেটে পৌঁছে সার্কিট হাউজে যাবেন। সেখানে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। এরপর তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে সার্কিট হাউজে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। রাষ্ট্রপতি সেখানে বক্তব্য দেবেন। পরে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচি শেষে রাত ৮টার বিমানে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সিলেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিলেট মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তায় সিআরটি, বোমা ডিসপোজাল, ড্রোন ও স্ট্রাইকিং টিমসহ বিশেষায়িত ইউনিট কাজ করবে।
রাষ্ট্রপতির চলাচলের রুট ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মো. আফজাল হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ট্রাফিক, সিটিএসবি, গোয়েন্দা ও পোশাকধারী পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের রুট, ভেন্যু, আশপাশের এলাকা ও বিভিন্ন ভবনের ছাদেও বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ১ হাজার ২০০-এর বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিআরটি, ডিবি, ড্রোন ও স্ট্রাইকিং টিম প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি র্যাবের সুইপিং টিম, এসবি, বিজিবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে এসএসএফ, পুলিশ, সিলেট মহানগর পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশে প্রায় ৮০০ অতিথির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সিলেট মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে নগরীর বিমানবন্দর, জিন্দাবাজার, চৌকিদেখী, চৌহাট্টা, দরগাহ, আম্বরখানা ও টিলাগড়সহ সাতটি পয়েন্টে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও বিশেষ চিকিৎসা ও জরুরি ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, রাষ্ট্রপতির সফর নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে এসএসএফ, জেলা প্রশাসন, এসএমপি, র্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি নগরবাসীকে ট্রাফিক আইন ও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন