ইয়েমেনের পুরো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় দেশটির ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীরা। নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে শক্তি প্রয়োগকেই সর্বোচ্চ চাপ তৈরির কার্যকর উপায় হিসেবে দেখছে তারা বলে মন্তব্য করেছেন ইয়েমেনি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা।
মঙ্গলবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-বাশা বলেন, ‘হুতিরা এখন সবকিছু চায়। তারা পুরো ইয়েমেন চায়।’
আল-বাশার ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিরা নিজেদের ইয়েমেনের সরকার হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করতে চায়। পাশাপাশি দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ, আকাশসীমা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়াও তাদের অন্যতম লক্ষ্য। এসব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ইয়েমেনের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে গোষ্ঠীটি।
তিনি মনে করেন, শেষ পর্যন্ত হুতিরা সৌদি আরবের কাছ থেকেও নিজেদের সরকার হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করতে পারে।
আল-বাশার মতে, হুতিরা যদি পুরো ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নেয়, তারপরও সৌদি আরবের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্গঠন সহায়তা দাবি করতে পারে। এতে সৌদি আরবের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, সৌদি আরব যদি হুতিদের এ ধরনের অর্থ সহায়তা দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা আরও অর্থ কিংবা নতুন কোনো দাবি জানাবে না—এর নিশ্চয়তা কী?
ইরানের সমর্থন হুতিদের আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হতে সহায়তা করেছে বলেও উল্লেখ করেন আল-বাশা। তবে তার দাবি, হুতিদের সব সিদ্ধান্তের ওপর তেহরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।
তার ভাষ্য, ইরানের কিছু উপদেষ্টা ইয়েমেনে থাকতে পারেন এবং তারা হুতিদের ওপর চাপ সৃষ্টি কিংবা নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করতে পারেন। তবে পুরো পরিস্থিতি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—এমনটা মনে করেন না তিনি।
আল-বাশা বলেন, ইরানই হুতিদের বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। তবে ইরানের সহায়তা ছাড়া হুতিরা টিকে থাকতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই পারবে।’
মন্তব্য করুন