জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। দীর্ঘদিন ধরে দূষিত বাতাসের সঙ্গে লড়াই করছে মেগাসিটি ঢাকা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ১৪৪ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় সপ্তম অবস্থানে রয়েছে রাজধানী। এ মাত্রার বায়ুমান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ২০০ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর। ১৯২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা।
এ ছাড়া ১৬২ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি। একই স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে ছিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। পঞ্চম অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়ার কুচিং শহরের বায়ুমান সূচক ছিল ১৫৩।
আইকিউএয়ার প্রতিমুহূর্তের বায়ুমানের তথ্যের ভিত্তিতে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই প্রকাশ করে। এই সূচকের মাধ্যমে কোনো এলাকার বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত এবং এর কারণে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০ পর্যন্ত ভালো, ৫১ থেকে ১০০ সহনীয় বা মাঝারি এবং ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি স্কোর দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
বায়ুদূষণ সব বয়সী মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও অন্তঃসত্ত্বাদের ক্ষেত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
বাংলাদেশে বায়ুমানের একিউআই নির্ধারণে বস্তুকণা বা পিএম১০ ও পিএম২.৫, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)—এই পাঁচ ধরনের দূষণকারী উপাদান বিবেচনা করা হয়।
২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের ধুলাকে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। সংস্থাটির হিসাবে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন