গাজার ধ্বংসস্তূপে চাপা মরদেহ নিয়ে উদ্বেগ জাতিসংঘের
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মৃতদের মর্যাদা রক্ষা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তুর্ক বলেন, গাজার যেসব এলাকায় এখনো ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন রয়েছে, সেখানে বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং ভবন ভেঙে ফেলার কাজ চলছে। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মরদেহ ও মানবদেহের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তুর্ক জানান, ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া বিভিন্ন স্থানে পুরো পরিবারের মরদেহ এবং মানবদেহের অংশ পাওয়া যাচ্ছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে থাকা পরিবারগুলোর কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন, তারা এখন তাদের সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কার বাস্তবতা দেখতে পাচ্ছেন, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছে। এসব ধ্বংসাবশেষ সরাতে প্রায় সাত বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচ থেকে ৬৩০টির বেশি মরদেহ ও মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ধারণা, এখনো ৮ হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন।
ভলকার তুর্ক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা হয়তো মোট সংখ্যার সামান্য অংশ। কারণ গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা বোমাবর্ষণ, ভবন ধ্বংস এবং পরবর্তী সময়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ সময় ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ পরিচালনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তুর্ক। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক বিস্ফোরক ব্যবহারের ফলে বেসামরিক মানুষ ও যোদ্ধাদের মধ্যে কার্যকর পার্থক্য করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তুর্কের ভাষ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা যুদ্ধাপরাধসহ অন্যান্য গুরুতর অপরাধের আশঙ্কাকে নতুন করে সামনে এনেছে। আবাসিক ভবনে হামলায় শিশু, নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বিধান যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
এদিকে, ৬ সেপ্টেম্বর উত্তর গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা প্রায় ১০০ জনের মরদেহ দাফন করেন ফিলিস্তিনিরা। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ জন শিশু ছিল বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
মন্তব্য করুন