Hafizur Rahman
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

গাজার ধ্বংসস্তূপে চাপা মরদেহ নিয়ে উদ্বেগ জাতিসংঘের

গাজার ধ্বংসস্তূপে চাপা মরদেহ নিয়ে উদ্বেগ জাতিসংঘের

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মৃতদের মর্যাদা রক্ষা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তুর্ক বলেন, গাজার যেসব এলাকায় এখনো ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন রয়েছে, সেখানে বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং ভবন ভেঙে ফেলার কাজ চলছে। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মরদেহ ও মানবদেহের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তুর্ক জানান, ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া বিভিন্ন স্থানে পুরো পরিবারের মরদেহ এবং মানবদেহের অংশ পাওয়া যাচ্ছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে থাকা পরিবারগুলোর কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন, তারা এখন তাদের সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কার বাস্তবতা দেখতে পাচ্ছেন, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছে। এসব ধ্বংসাবশেষ সরাতে প্রায় সাত বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচ থেকে ৬৩০টির বেশি মরদেহ ও মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ধারণা, এখনো ৮ হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন।

ভলকার তুর্ক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা হয়তো মোট সংখ্যার সামান্য অংশ। কারণ গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা বোমাবর্ষণ, ভবন ধ্বংস এবং পরবর্তী সময়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ সময় ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ পরিচালনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তুর্ক। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক বিস্ফোরক ব্যবহারের ফলে বেসামরিক মানুষ ও যোদ্ধাদের মধ্যে কার্যকর পার্থক্য করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তুর্কের ভাষ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা যুদ্ধাপরাধসহ অন্যান্য গুরুতর অপরাধের আশঙ্কাকে নতুন করে সামনে এনেছে। আবাসিক ভবনে হামলায় শিশু, নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বিধান যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।

এদিকে, ৬ সেপ্টেম্বর উত্তর গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা প্রায় ১০০ জনের মরদেহ দাফন করেন ফিলিস্তিনিরা। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ জন শিশু ছিল বলে জানানো হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ে ১২৩ বোতল ফেন্সিডিল জাতীয় মাদক ও ৬২০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

১

পোরশায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

২

চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুবক হত্যা, চাকুসহ একজন গ্রেপ্তার

৩

সোনারগাঁও ক্রসিংয়ে পুলিশ সার্জেন্ট পলাশের তৎপরতায় অপহৃত দুই শিশু উদ্ধার

৪

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে উদ্ভাবনী চিন্তা ও মেধার বিকাশ ঘটাতে হবে: শিল্পমন্ত্রী

৫

জন্মগত ঠোঁট ও তালু কাটা শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

৬

ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ বছরের শিশুকে নির্জনে নিয়ে ধর্ষণ, ধর্ষক হৃদয় চন্দ্র পলাতক

৭

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বারসহ ৪ বারে এনবিআরের অভিযান, বিপুল অবৈধ মদ উদ্ধার

৮

ডিবির হাতে জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

৯

কমর উদ্দিন ব্যাপারী জামে মসজিদে চেয়ারম্যান প্রার্থী এডভোকেট ইউনুস সুমনের গণসংযোগ ও দোয়া প্রার্থনা

১০

পঁচিশ’শ পিস ইয়াবাসহ নোয়াখালীতে ডিবির হাতে গ্রেফতার

১১

শেনবাগের ১নং ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড বিরাহিমপুরবাসীর পক্ষ থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি

১২

ধামইরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস পালিত

১৩

ঠাকুরগাঁওয়ে নাগর নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, পরে উদ্ধার কিশোরের মরদেহ

১৪

দূর্গা মন্ডপ পরিদর্শন করেন আলহাজ্ব মো: মনজুরুল ইসলাম এমপি

১৫

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নির্মিত মসজিদের উদ্বোধন

১৬

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর পাশে পৌর প্রশাসক জেবুননাহার শাম্মী, আর্থিক অনুদানে মানবিক উদ্যোগের নতুন ধারা

১৭

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ২১৬ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক আটক

১৮

বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ণ ছাড়াই মেরামত করা হচ্ছে সোনারগাঁও বড় সরদার বাড়ি

১৯

জাতীয় উপাদানশীলতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

২০