ইউরোপে মোতায়েন থাকা ২৫ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহারের সংখ্যা ৪০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত বর্তমান ও সাবেক মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের পর্যালোচনায় ২৫ হাজারের বেশি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সেনা মোতায়েন থাকা দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, ইতালি ও স্পেন রয়েছে। ফলে বড় ধরনের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এসব দেশের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
পেন্টাগনের ইউরোপীয় সামরিক উপস্থিতি নিয়ে ছয় মাসব্যাপী পর্যালোচনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএস ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান এবং ন্যাটোর সুপ্রিম অ্যালায়েড কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে প্রাথমিক বিশ্লেষণ তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পর্যালোচনায় বিমান, নৌ ও স্থলবাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে একাধিক সম্ভাব্য পরিকল্পনা থাকতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপে থাকা কিছু মার্কিন সেনাকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের দিকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে কোনো প্রস্তাব উপস্থাপনের আগে আগামী ৬ নভেম্বর প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ দেওয়া হতে পারে।
মূলত ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইউরোপীয় দেশগুলোর নিজেদের প্রচলিত প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের একটি বড় অংশ অন্য অঞ্চলে ব্যবহারের দিকে মনোযোগ দেওয়ার কথাও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য সেনা প্রত্যাহার নিয়ে কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতা ও ইউরোপীয় সরকারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত মার্কিন সেনা কমানো হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ন্যাটোর প্রতিরোধ সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। Reuters-ও জানিয়েছে, ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে চলমান পর্যালোচনা ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও পেন্টাগনের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টিও সামনে এসেছে। গত জুনে পেন্টাগন ন্যাটোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সম্ভাব্য বড় আকারের সেনা কমানোর বিষয়ে অবহিত করার প্রস্তুতি নিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এতে হস্তক্ষেপ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েনের পর্যালোচনায় পররাষ্ট্র দপ্তর ও মার্কিন কূটনীতিকদের আরও সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকজন মার্কিন সিনেটর। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেটর জিন শাহিন রুবিওকে লেখা এক চিঠিতে ইউরোপে সম্ভাব্য সেনা পরিবর্তনের কূটনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় মার্কিন কূটনীতিকদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, পর্যালোচনার সময় তাদের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
তবে সেনা প্রত্যাহারের পরিমাণ, কোন দেশ বা ঘাঁটি থেকে সেনা সরানো হবে এবং আদৌ কতটা প্রত্যাহার করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মন্তব্য করুন