বাংলাদেশ চা শ্রমিক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাখন লাল কর্মকারের অকাল মৃত্যুতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শোকসভায় চা শ্রমিক ও পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দ তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বাংলাদেশ চা বোর্ড নিয়ন্ত্রিত নিউ সমনবাগ চা বাগান, পাথারিয়া চা বাগান ও মোকাম ডিভিশন,এবং রশিদাবাদ চা বাগান, কেরামত নগর চা বাগান, শাহবাজপুর চা বাগান, ফতেহবাদ চা বাগান, ছোট্টখা চা বাগান, লক্ষিছড়া চা বাগান, কুমারশাইল চা বাগান, পাল্লাথল চা বাগান, অহিদাবাদ চা বাগানের চা শ্রমিক ও পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দ এ শোকসভায় অংশ নেন।
নিউ সমনবাগ চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাঙ্গা চরণ সাঁওতালের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি নারায়ণ কালোয়ারের সভাপতিত্বে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিউ সমনবাগ চা বাগানের প্রধান ঠিলা করণিক কৃপাময় দাস (পিংকু), দ্বিতীয় ঠিলা করণিক কামাল হোসেন, বদ্রী প্রসাদ উপাধ্যায়, পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নারায়ণ কালোয়ার, সাবেক সভাপতি কন্দ মুন্ডা, সাধারণ সম্পাদক রাঙ্গা চরণ সাঁওতাল, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন চাষা, চা শ্রমিক নেতা রাসবিহারী রবিদাসসহ চা শ্রমিকরা।
শোকসভায় বক্তারা বলেন, মাখন লাল কর্মকার দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করেছেন। চা শ্রমিকদের মজুরি ২২ টাকা থেকে পর্যায়ক্রমে ১৯৬ টাকায় উন্নীত করার আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্ব ও শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের কারণে চা শ্রমিকরা বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, চা শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মাখন লাল কর্মকারের অবদান চা শ্রমিক সমাজ দীর্ঘদিন স্মরণ করবে। তাঁর মৃত্যুতে চা শ্রমিকদের মধ্যে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
পরে উপস্থিত চা শ্রমিক ও পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দ মাখন লাল কর্মকারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১০ মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি ও স্বর্গলাভ কামনা করে প্রার্থনা করেন।
মন্তব্য করুন