সারাদেশে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিতকরণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির সার্বিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করতে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সুপারভাইজার এবং তথ্য সংগ্রহকারীদের দ্রুততম সময়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি সম্পন্নের তাগিদ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
প্রথম ধাপে ৫ হাজার ডিজিটাল ট্যাব ব্যবহার করে দেশের নির্বাচিত ২০৮টি উপজেলার ২০৮টি ওয়ার্ডে পাইলটিং কর্মসূচির অধীনে তথ্য সংগৃহীত হবে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে এসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা ও প্রস্তুতকরণ:
সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রেরিত নির্দেশনায় বিভাগীয় পরিচালক, জেলার উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবিলম্বে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়, সদর দপ্তরের মাস্টার ট্রেইনারদের প্রাথমিক তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে। এখন তথ্য সংগ্রহের জন্য ট্যাব, বিশেষ ড্রেস, সিম সংযোগ ও নির্ধারিত অ্যাপ ইনস্টলেশন কার্যক্রম শেষ করে এক দিনের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর সদর দপ্তরের ২০ জন জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক দেশের ৩০ থেকে ৪০টি নির্ধারিত ভেন্যুতে প্রায় ১০০ জন মাস্টার ট্রেইনারকে দুই দিনের গভীর প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।
প্রশিক্ষণ পর্যায় ও অনলাইন মূল্যায়ন পরীক্ষা:
পরবর্তী ধাপে বিভাগীয় পরিচালকদের সার্বিক তদারকিতে এই ১০০ জন মাস্টার ট্রেইনার নিজ নিজ উপজেলায় গিয়ে পাঁচ থেকে ছয় দিনের সময়সীমার মধ্যে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এতে সুপারভাইজারদের দুই দিন এবং তথ্য সংগ্রহকারীদের দুই দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হবে।
প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে সরাসরি মাঠে যাওয়ার পূর্বে প্রত্যেক তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইন মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। যদি কোনো এলাকায় সমাজসেবা কর্মকর্তার সংকট থাকে, তবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, আইসিটি কর্মকর্তা কিংবা কৃষি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় অন্যান্য দপ্তরের প্রথম শ্রেণির ক্যাডার কর্মকর্তাদেরও মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
ওয়ার্ড নির্বাচন ও তথ্য সংগ্রহের স্থান নির্ধারণ:
জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্বাচিত উপজেলার ২১১টি ইউনিয়ন ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে নির্দিষ্ট করে ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই মূলত তথ্য সংগ্রহ শুরু করতে হবে। কোন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাজ শুরু হবে, তা সংশ্লিষ্ট জেলা উপপরিচালক স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্যদের সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে রেজুলেশন করে চূড়ান্ত করবেন। সিটি কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রেও স্থানীয় এমপিদের পরামর্শক্রমে ওয়ার্ড নির্ধারিত হবে।
আইডি অনুমোদন ও পার্বত্য এলাকার বিশেষ নির্দেশনা:
মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনায় সারা দেশ থেকে নির্বাচিত ৬৬ হাজার ৯১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৮১৮ জন সুপারভাইজারের প্রোফাইল আইডি অতি দ্রুত যাচাই ও অনুমোদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কর্মকর্তারা নিজ নিজ আইডি থেকে এ অনুমোদন সম্পন্ন করবেন।
কোনো প্রার্থী কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করলে লিখিত আবেদন সাপেক্ষে তাকে বাদ দিয়ে রেজুলেশনের মাধ্যমে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নতুন সদস্য যুক্ত করা হবে। এছাড়া পার্বত্যাঞ্চলে প্রজ্ঞাপিত জেলা বাস্তবায়ন ও সমন্বয় কমিটিই সম্পূর্ণ কার্যক্রম তদারকি করবে এবং এর জন্য অতিরিক্ত কোনো সাব-কমিটি গঠনের প্রয়োজন পড়বে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
সূত্র: বাসস
মন্তব্য করুন