ক্যারিবীয় অঞ্চলের সার্বভৌম রাষ্ট্র কিউবায় সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে নিজেদের সর্বাত্মক প্রস্তুত করছে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী। এর অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় সামরিক জনবল, রসদ সরবরাহ এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত সহায়তা ইউনিটের সক্ষমতা ও প্রস্তুতি সরেজমিনে যাচাই করা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘সিবিএস নিউজ’ (CBS News)-এর একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বিস্তারিত:
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য অভিযানের প্রয়োজনে আগামী চার মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাউদার্ন কমান্ড’-কে সামরিক পুলিশ, প্রশিক্ষিত চিকিৎসাকর্মী, প্রকৌশলী ও অন্যান্য সহায়ক ইউনিট সরবরাহ করা সম্ভব কি না—তা খতিয়ে দেখতে মার্কিন সেনা রিজার্ভ বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সামরিক নথিতে ভৌগোলিক গোপনীয়তার খাতিরে সরাসরি কিউবার নাম উল্লেখ করা না হলেও পেন্টাগন ও মার্কিন সামরিক প্রশাসনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, এটি কিউবাকেন্দ্রিক কৌশলগত পদক্ষেপের অংশ।
এই প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় মূল নজর রাখা হচ্ছে লজিস্টিকস ও রসদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ‘কমব্যাট সাসটেইনমেন্ট সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন’, বিশেষ প্রকৌশলী ব্যাটালিয়ন, জরুরি অস্ত্রোপচারের আধুনিক সুবিধাসহ মেডিকেল ব্রিগেড এবং ক্ষেত্রবিশেষে বন্দি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত সামরিক পুলিশ ব্রিগেডের সক্ষমতার ওপর।
নথির নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব বিশেষ সামরিক ইউনিটের চূড়ান্ত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সেনা রিজার্ভ সদর দপ্তরকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
কূটনৈতিক পরিস্থিতি ও উত্তেজনার পারদ:
যদিও পেন্টাগনের পত্রে সামরিক সক্ষমতা মূল্যায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে, তবে কোনো নির্দিষ্ট ইউনিটকে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে মোতায়েনের আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হয়েছে কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়। সামরিক গোপনীয়তার স্বার্থে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড আগাম অভিযানের পরিকল্পনা বা সৈন্য মোতায়েন সংক্রান্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও সামরিক বলপ্রয়োগের বিকল্প এড়ানোর কূটনৈতিক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্পের এই সমঝোতার বার্তার বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়ে পেন্টাগনের এই প্রচ্ছন্ন সামরিক প্রস্তুতি পুরো লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে চরম সামরিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন