সাকিব হোসেন- কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পাচারকালে ২০ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের নাউতি ভবানীপুর এলাকা থেকে ১০ বস্তা টিএসপি ও ১০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
পরে জব্দকৃত সার হেফাজতে নিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিলাইদহ ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মো. মকবুল হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দকৃত সার ন্যায্যমূল্যে উপস্থিত কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়।
অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫৬-এর ৬ ধারায় আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাভিদ সারওয়ার। অভিযানে সহযোগিতা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন ও থানা পুলিশ।
এলাকাবাসী ও অভিযান সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে শিলাইদহ বাজারের বিসিআইসি ডিলারের দোকান থেকে ২০ বস্তা সার পলিথিনে ঢেকে খোকসার শোমসপুর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল আলিমের দোকানে পাচার করা হচ্ছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এক ইউনিয়নের সার অন্য ইউনিয়নে নেওয়া বা বিক্রির সুযোগ নেই। পথে ভ্যানসহ সার আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার এলাকার সার খোকসায় পাচার হচ্ছিল। প্রতিদিনই ভ্যানে এমন সার পাচার হয়। সন্দেহজনকভাবে ভ্যান থামিয়ে পাচারের প্রমাণ মিললে প্রশাসনকে জানানো হয়।’
ভ্যানচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, তিনি শিলাইদহ বাজারের ডিলার পয়েন্ট থেকে ৩০ হাজার টাকায় ১০ বস্তা ইউরিয়া ও ১০ বস্তা টিএসপি সার কিনেছেন। সারের প্রকৃত মালিক শোমসপুর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম।
ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম বলেন, ‘মাঝেমধ্যে শিলাইদহের ডিলারের কাছ থেকে সার কিনে কৃষকদের কাছে বিক্রি করি। আজ ৩০ হাজার টাকায় ২০ বস্তা কিনেছিলাম। আমার ভুল হয়েছে।’
এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি শিলাইদহ বিসিআইসি ডিলার পয়েন্টের ব্যবস্থাপক মো. মনিরুল ইসলাম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, ‘নিয়ম অমান্য করে এক ইউনিয়নের সার অন্য ইউনিয়নে বিক্রির অভিযোগে ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দকৃত সার ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে। একই অপরাধে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই ডিলারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে সতর্ক করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
মন্তব্য করুন