ফেনী শহরের রামপুর এলাকায় শাশুড়ির জানাজায় অংশ নিতে যাওয়ার সুযোগে ভাড়া বাসা থেকে সাড়ে ১০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার ও রূপা চুরি করার অভিযোগে সি.আর মামলার পলাতক আসামি মোহাম্মদ বাশার হাওলাদারকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিংকু বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ শহরের একটি পাইকারি আড়তে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় তল্লাশি চালিয়ে তার প্যান্টের পকেট থেকে দুটি গাঁজার রোল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত বাশার হাওলাদার পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর থানার উত্তর ভবানীপুর গ্রামের মোঃ খালেক হাওলাদারের ছেলে।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ফেনী শহরের তাকিয়া রোডের ‘রাহেলা ম্যানশন’-এ পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ জামাল হাওলাদার (৩৯)। তিনি শহরের ফুটপাতে পেঁয়াজ, রসুন ও মসলা জাতীয় পণ্যের ব্যবসা করেন। অভিযুক্ত বাশার একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় তাকে মাসিক ১০,০০০ টাকা বেতনে ব্যবসা ও বাসা দেখাশোনার জন্য নিয়োগ দিয়েছিলেন জামাল।
গত ৪ জুন সকালে শাশুড়ির মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারসহ গ্রামের বাড়িতে যান জামাল হাওলাদার। যাওয়ার সময় বাসার চাবি বাশারের হাতে বুঝিয়ে দিলেও স্টিলের আলমারির চাবিটি দুর্ঘটনাবশত ফ্রিজের ওপর রয়ে যায়। গত ৮ জুন বিকেলে বাসায় ফিরে জামাল দেখতে পান আলমারির তালা খোলা এবং ভেতরের ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের ১০ ভরি রূপা চুরি হয়ে গেছে।
ঘটনার পর থেকে বাশার তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে নিজ গ্রামে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় মাতব্বরদের মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহার চেষ্টা করা হলে বাশার চুরি যাওয়া মালামাল ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং জামাল হাওলাদারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে তা গ্রহণ না করায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলী আদালতে দণ্ডবিধির ৩৮০ (বাসাবাড়িতে চুরি) ও ৫০৬ (২) (প্রাণনাশের হুমকি) ধারায় একটি সি.আর মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করে ফেনী মডেল থানা পুলিশ।
মন্তব্য করুন