ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নিয়ে নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন দোকানে প্রতিটি গ্যাস সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই জ্বালানির বাড়তি দাম মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন অলিগলি, প্রধান সড়ক ও গ্যাস বিক্রির দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার
বাংলাদেশে বর্তমানে (১০ অক্টোবর ২০২৬) ১২ কেজি বেসরকারি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১,৮৩৭ টাকা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ৪ অক্টোবর এই মূল্য নির্ধারণ করেছে, যা ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে। নির্ধারিত টাকা দামের সিলিন্ডারও দোকানগুলোতে ওই মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে না। বরং প্রতিটি সিলিন্ডারে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ টি. এ. রোডের কয়েকটি গ্যাস বিক্রির দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্দিষ্ট কোম্পানির সিলিন্ডার না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে অন্য কোম্পানির সিলিন্ডার পরিবর্তন করে নিতে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। ফলে একদিকে বাড়তি দাম, অন্যদিকে সিলিন্ডার পরিবর্তনের অতিরিক্ত খরচ সব মিলিয়ে ভোক্তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
টি. এ. রোডের কালীবাড়ি মোড়ের পশ্চিম পাশে অবস্থিত দেবজিৎ স্যানিটার নামের একটি দোকানে গ্যাসের দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে দোকানে কর্মরত আশিস দাস বলেন, “সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করলে আমাদের পেট চলবে না। তাই প্রতিটি গ্যাসের বোতলে দুই থেকে তিনশ টাকা বেশি নিচ্ছি।”
নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে গ্যাস বিক্রি করা আইনসম্মত কি না, জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তেরে উঠে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ওই দোকান থেকে গ্যাস কেনা এক মহিলা নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁকেও প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। তবে শহরের অন্যান্য দোকানেও একইভাবে দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে সৌরজমিনে দেখা যায়। অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, রান্নার গ্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এভাবে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হলেও কার্যকর তদারকি চোখে পড়ছে না। এতে সাধারণ মানুষ অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে সংসারের ব্যয় সামলাতে গিয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা দাবি করেছেন সচেতন মহল। তাঁদের মতে, বাজারে নিয়মিত তদারকি, নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অন্যথায়, রান্নার গ্যাসের বাজারে অতিরিক্ত দাম আদায়ের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি আরও বাড়বে। তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের গ্যাস বিক্রির দোকানগুলোতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা, মূল্যতালিকা যাচাই এবং সরকারি নির্ধারিত দাম কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
আর/কে
মন্তব্য করুন