গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি নেতা, জনপ্রতিনিধি, প্রবাসী, স্থানীয় প্রশাসনসহ অনেকেই। পরিবারটিকে পুনর্বাসনে কেউ দিচ্ছেন নগদ টাকা, কেউ বাঁশ-খুঁটি, কেউ খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তা।
সবশেষ আজ মঙ্গলবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা মানবিক সহায়তা দিয়েছেন খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী মো. রিপন হোসেন। সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে তিনি দিনমজুর হাসান আলীর হাতে টাকা তুলে দেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা, বাসিন্দা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
হাসান আলী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলংগী রেলপাড়া এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। পেশায় দিনমজুর। নিজস্ব কোনো জায়গা-জমি নেই। রেলের ধারে টিনের ছাপড়া ঘরে স্ত্রী নুপুর খাতুন, প্রতিবন্ধী ছেলে হোসেন আলী (৫) ও বৃদ্ধ মা ফাতেমা খাতুনকে নিয়ে বাস করতেন তিনি।
গত ৫ অক্টোবর ভোরে তাঁর বাড়িতে আগুন লাগে। প্রতিবেশীরা প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে ঘরে থাকা নগদ ২৫ হাজার টাকা, আসবাব, চাল-ডাল, কাপড়চোপড়সহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
সংবাদ প্রকাশের পর অনেকেই সহায়তার হাত বাড়ান। কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল উদ্দিন বাবু ২১ হাজার টাকা, আমেরিকান প্রবাসী শাহেদ আহমেদ ১২ হাজার টাকা, নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর ইসলাম খোকন ২০ হাজার টাকা এবং মেয়র পদপ্রার্থী রিপন হোসেন ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেন। ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই বস্তা শুকনো খাবার দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, রেললাইন ঘেঁষে গড়ে ওঠা বসতিতে হাসান আলীর বাড়ির স্থানটি ফাঁকা। পড়ে আছে কয়েকটি পোড়া খুঁটি ও পোড়া আসবাবের অংশ।
হাসান আলী বলেন, নতুন ঘর করার সামর্থ্য নেই। পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে থাকছি। আগুনের খবর প্রকাশের পর অনেকেই পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ বিএনপি নেতা ২০ হাজার টাকা দিলেন। আর ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা হলেই নতুন ঘরের কাজ শুরু করতে পারব।’
তাঁর মা ফাতেমা খাতুন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘কাপড়চোপড়, হাঁড়ি-পাতিল কিছুই নেই। মানুষ খাবার দিচ্ছে, থাকতে দিচ্ছে, তাই আছি। আপনারা যা দিয়েছেন, তাতেই অনেক খুশি। এ দিয়েই আবার ঘর তুলব।’
সহায়তা দেওয়া বিএনপি নেতা রিপন হোসেন বলেন, পরিবারটি খুব অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। সাধ্যমতো ২০ হাজার টাকা সহায়তা করেছি। অন্যদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার বলেন, ঘটনার দিন শুকনো খাবার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। লিখিত আবেদন পেলে সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।
মন্তব্য করুন