শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির মিলনে টানা সরকারি ছুটির আবহ শুরু হতেই পর্যটকদের চঞ্চল পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। শরতের নরম রোদ, উৎসবের আনন্দ আর সাগরের নীল জলরাশির আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে সমুদ্রসৈকতে ছুটে এসেছেন লাখো ভ্রমণপিপাসু।
বালুচরে আনন্দের জোয়ার, ফিরল উৎসবের আমেজ..
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল থেকেই সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে যেন জনসমুদ্র উপচে পড়েছে। নোনা জলে পা ভিজিয়ে মেতে ওঠা স্নানের আনন্দ, বালুচরে ভালোবাসার প্রিয় মুহূর্তগুলো সেলফিতে বন্দি করা, কিংবা কিটকটে (ছাতা চেয়ার) বসে সাগরের গর্জন শোনার আকুলতা—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন পর সৈকতজুড়ে ফিরে এসেছে চেনা আনন্দের আমেজ।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা সুমিত ও অনন্যা দম্পতি তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন,
”পূজার ছুটির প্রথম দিনেই সাগরের টানে কক্সবাজারে চলে এলাম। সৈকতজুড়ে মানুষের এই উচ্ছ্বাস আর ভিড় দেখে সত্যি ভীষণ ভালো লাগছে। উৎসবের আনন্দটা সাগরের পাড়ে এসে যেন কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।”
চাঙ্গা পর্যটন ব্যবসা: ১০ দিনে ১ হাজার কোটি টাকার জোয়ারের আশা
ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসা। শহরের ছোট-বড় পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউসের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ ইতিমধ্যেই আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের এই স্রোত অব্যাহত থাকবে। এই ১০ দিনে অন্তত ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে, যার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যটন খাতে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার বিশাল অর্থপ্রবাহ বা ব্যবসার সম্ভাবনা দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে মেরিন ড্রাইভের একটি কটেজে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ডের ফলে মেরিন ড্রাইভ এলাকার রিসোর্টগুলোতে কিছুটা শঙ্কা ও ভাটা লক্ষ্য করা গেছে। ফলে নিরাপত্তা বিবেচনায় ভ্রমণপিপাসুদের বেশির ভাগই শহরের মূল হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর প্রতিই ঝুঁকছেন।
স্বস্তিদায়ক যাতায়াত ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চালু করেছে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস।
অন্যদিকে, ঘুরতে আসা মানুষের নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলোতে অতিরিক্ত মূল্য আদায় বা হয়রানি বন্ধে জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।
আর/কে
মন্তব্য করুন