রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল দলের সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তীব্র গোলাগুলি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে খাগড়াছড়ি-সাজেক প্রধান সড়কে পূর্বঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে এই সহিংস সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সংঘর্ষের বিবরণ ও পটভূমি:
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় বিভিন্ন আঞ্চলিক দাবিদাওয়া নিয়ে গত বুধবার বিকেলে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ এবং ‘কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’ যৌথভাবে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দেয়। সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আন্দোলনকারী ও সশস্ত্র সমর্থকরা উজোবাজার এলাকায় সাজেক সড়কে অবস্থান নিয়ে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও ব্যারিকেড দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।
সকাল ১১টার দিকে সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ শেষে আটকে পড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার পর্যটককে নিরাপদে স্কট দিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। তারা সড়ক থেকে গাছের গুঁড়ি ও ব্যারিকেড সরানোর উদ্যোগ নিলে সশস্ত্র আন্দোলনকারীরা এতে বাধা সৃষ্টি করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে অতর্কিত ইটপাটকেল ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।
পর্যটকদের দুর্ভোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি:
হঠাৎ শুরু হওয়া অবরোধ ও সহিংস গোলাগুলির কারণে সাজেক ভ্যালির রুইলুই পাড়া ও কটেজ এলাকাগুলোতে ঘুরতে আসা অন্তত ৩ হাজার পর্যটক চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে বর্তমানে আটকা পড়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানান, সাজেক সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুরো উজোবাজার ও সাজেক এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আর/কে
মন্তব্য করুন