সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রেজা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের আবেদন:
এর আগে আজ রোববার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর অভিজাত এলাকা ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে আব্দুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মাসুদুর রহমান আদালতে তাঁকে কারাগারে আটক রাখার প্রার্থনা জানান। অন্যদিকে, আসামি আব্দুল মান্নানের পক্ষে আইনজীবী আল ইমরান মুকুল জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের জোরালো বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে আদালতের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী শুনানির সময় তাঁকে এজলাসে তোলা হয়নি।
মামলার বিবরণ:
পুলিশের দেওয়া মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১৮ জুন সকালে রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী আকস্মিক একটি গোপন মিছিল বের করেন।
উক্ত মিছিল থেকে তারা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান দেন এবং প্রকাশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি ও রাষ্ট্রবিরোধী ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত হন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
উক্ত ঘটনার দিনই তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জাহিদুল হক বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাবেক এমপি আব্দুল মান্নানকে ওই মামলায় প্রধান বা সংশ্লিষ্ট নির্দেশদাতা হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলো।
আর/কে
মন্তব্য করুন