দেশের আদালতগুলোতে ঝুলে থাকা ৪০ লাখেরও বেশি মামলার জট কমাতে এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে মোট ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৮৭১টি নতুন আদালত এবং ২৩২ জন বিচারকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, বিচারপ্রক্রিয়াকে আধুনিক ও সহজ করতে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি আইন (সংশোধন) ২০২৬’-এ যুগান্তকারী কিছু বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারি করা যাবে। এছাড়া হলফনামার ভিত্তিতে আরজি দাখিল এবং সরাসরি জেরা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এমনকি ডিক্রি জারির জন্য আলাদা মামলা না করে মূল মামলার মধ্যেই আবেদনের বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ১৫০ জন নতুন সিভিল জজ নিয়োগের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৭০৮ জন কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে এবং আরও ৫৫৩টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান।
বিরোধীদলীয় সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিচারকদের পদায়নে কেবল সততা, দক্ষতা ও পেশাগত আচরণকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সরকারের একক কোনো কর্তৃত্ব নেই; আইন মন্ত্রণালয় কেবল সুপারিশ করবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সুপ্রিম কোর্ট।
