ইসরায়েলের সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের প্রাথমিক ও আংশিক ফলাফলে অগ্রগতির পুরো কৃতিত্ব নিজেকে দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আংশিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্ধারিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
তবে ভোট গণনার প্রাথমিক প্রবণতা স্পষ্ট হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দেওয়া সমর্থনের কার্যকারিতা তুলে ধরে কৃতিত্ব দাবি করেছেন ট্রাম্প।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে দাবি করা হয়, নেতানিয়াহুর প্রতি তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রকাশ্যে সমর্থন ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের পুরো চিত্রই পাল্টে গেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের বক্তব্য ও মূল্যায়ন:
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, তাঁর সমর্থন ঘোষণার পূর্বে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর এক বড় ধরনের পরাজয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই পরিস্থিতি বদলে এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা অমীমাংসিত থাকতে পারে বা নেতানিয়াহু জয়ী হতে পারেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্য মতে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করেই তিনি এই সমর্থন প্রদান করেছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি রাজনৈতিক সমাবেশ শেষে ফিরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইসরায়েলের নির্বাচন ও ফলাফল নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি জানান, বুথফেরত জরিপ এবং শীর্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন নেতানিয়াহু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ভালো ফলাফল করছেন। তাঁর মতে, আনুষ্ঠানিক সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে সাহায্য করেছে।
নেতানিয়াহুর সাথে যোগাযোগ ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
নির্বাচনের ফলাফল আসতে শুরু করার পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি কোনো টেলিফোন বা বার্তা বিনিময় হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, এখনো তাঁদের মধ্যে কথা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৬ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র ৯ দিন আগে নেতানিয়াহুর প্রতি সরাসরি ও পূর্ণাঙ্গ সমর্থন ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পোস্টে তিনি নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং আঞ্চলিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এক অবিচ্ছেদ্য ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার বলে অভিহিত করেছিলেন। ট্রাম্পের মতে, ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর বিকল্প অন্য কোনো নেতা ক্ষমতায় এলে ওয়াশিংটন ইরানকে মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই ধরনের সুদৃঢ় কৌশলগত অংশীদারত্ব পাবে না।
এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছিলেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে কাউকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি তিনি তখনো ভাবেননি, তবে পরবর্তীতে সমর্থনের সম্ভাবনা নাকচও করেননি। যদিও নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল এবং জোট গঠনের সমীকরণ এখনো অনিশ্চিত, কিন্তু ভোট গণনার মধ্যপথেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কৃতিত্ব দাবি বিশ্ব রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আর/কে
মন্তব্য করুন